![]()
ইবি রিপোর্ট
দিনের বেলায় তীব্র রোদ ও গরম, আর সন্ধ্যা নামতেই বইছে হিমেল বাতাস। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। ভোর পর্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া থাকলেও সূর্য ওঠার পর দ্রুত বদলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। উত্তরাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ে দিন ও রাতের আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যের মধ্যেই ক্রমেই কমছে তাপমাত্রা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শীতের আগমনী অনুভূতি বাড়ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার একই সময়ে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।
তবে রাত ও ভোরের ঠান্ডা দিনের আবহাওয়ায় তেমন প্রভাব ফেলছে না। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পঞ্চগড়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে সকালে ও রাতে ঠান্ডা অনুভূত হলেও দিনের বেশির ভাগ সময় চড়া রোদ ও গরমের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে জেলার মানুষকে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে পঞ্চগড়বাসীকে একই দিনে দুই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে তাপমাত্রা কমে ঠান্ডা বাড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও গরম অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগ ও ভোরের দিকে শীতের আমেজ বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকায় হিমালয় থেকে নেমে আসা ঠান্ডা বাতাস সরাসরি পঞ্চগড়ে প্রবেশ করছে। এর প্রভাবেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
তিনি জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে মেঘহীন বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব কেটে গেলে পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জেলার তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি শীতের আবহাওয়া জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে পঞ্চগড়ে দিনের গরম ও রাতের ঠান্ডার এই পালাবদলের মধ্য দিয়ে শীতের আগমনী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আপাতত দিনে উষ্ণ আবহাওয়া বজায় থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কমার প্রবণতা এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষকের পূর্বাভাসে আগামী দিনগুলোতে শীতের আমেজ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য