![]()
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ঘিরে চলমান বিতর্কে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের সংবাদ নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি ও গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, গোলাম পরওয়ার ‘ফাটা বাঁশের চিপায়’ পড়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। পোস্টে তিনি জামায়াতের বিবৃতির ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, বিবৃতিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক না হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াতের এই বিবৃতির ভাষা কি প্রমাণ করে না যে, মিয়া গোলাম পরওয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন? বিবৃতিতে কোথাও বৈঠক না হওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে নাই এবং বিবৃতিতে কোথাও ভারত শব্দটা পর্যন্ত আনে নাই! কেন?’
এরপর গোলাম পরওয়ারকে ঘিরে বিতর্কের দায় জামায়াতের ওপরও পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শোনেন, মিয়া গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছে, জামায়াত তাকে রক্ষা করতে গেলে পুরো দলকে এর দায় নিতে হবে। আর এখন থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিলে জনগণ উত্তর দিবে মুনাফেক মুনাফেক! দিল্লি না ঢাকা…. মুনাফেক, মুনাফেক!’
পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় গোলাম পরওয়ারের আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, আগের দিন সাংবাদিকেরা যখন গোলাম পরওয়ারকে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি অথবা তাঁর পাশ থেকে কেউ একজন বলেছিলেন, ‘না আজ অন্য প্রশ্ন না!’
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, গোলাম পরওয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দ্রুত দিয়ে পরে অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে চলে যান। তাঁর প্রশ্ন, সেদিন যদি অন্য প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই থাকে, তাহলে প্রথম প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো কেন?
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এর মূল কারণ হলো, প্রথম প্রশ্নে তিনি ইতস্তত অনুভব করছিলেন যে, টুপি মাথায় দিয়ে আর কতো মিথ্যা বলা যায়! আমিও অবাক হলাম, জামায়াত যে ইসলামের কথা বলে! তাদের ইসলাম মানে কি টুপি মাথায় দিয়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো?’
রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্যে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বৈঠক, জামায়াতের বিবৃতির ভাষা এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। তবে তাঁর ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত বক্তব্য ও অভিযোগগুলো রাশেদ খাঁনের নিজস্ব মন্তব্য হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য