![]()
ইবি রিপোর্ট
গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকার অপরিশোধিত বকেয়া কর আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি ও সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ওই অর্থ আদায় করতে পারবে না। আগামী ১৩ ডিসেম্বর মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের (ডিসিটি) রায় সঠিক ঘোষণা করে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার অপরিশোধিত করের বিষয়ে আদেশ দেন। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব আবেদনকারীর কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অতিরিক্ত নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মূল মামলা এবং কমিশনারের কাছে আপিল রিভিশন—এই দুটি মামলার পারস্পরিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট একই আদেশ দিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানির আবেদন করা হলে চেম্বার বিচারপতি তা গ্রহণ করেন।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, চেম্বার আদালত মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগে অর্থ আদায়ের প্রশ্ন আসে না। এ কারণে হাইকোর্টের রায়ে থাকা বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশনার অংশটি স্থগিত করা হয়েছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব আবেদনকারীর কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
চেম্বার আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ও রায় না হওয়া পর্যন্ত এনবিআর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা আদায় করতে পারবে না। আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার আইনি ভিত্তি ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোনে গ্রামীণ ব্যাংকের ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ ইকুইটি শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিনিয়োগ পারস্পরিক চুক্তির আওতায় ভাগাভাগি করা হয়েছিল।
তিনি জানান, ২০০৪ সাল থেকে গ্রামীণফোন সরকারের পক্ষে নির্ধারিত উৎসে কর বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স কেটে রেখে আসছে। এ ব্যবস্থা অনুমোদিতও ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পর ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে একটি পরিদর্শনের মাধ্যমে ওই অর্থকে অতিরিক্ত আয় হিসেবে দাবি করা হয়। তখন গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবী আরও বলেন, যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হলেও পরিদর্শন করা হয়েছে শুধু গ্রামীণ কল্যাণের ক্ষেত্রে; গ্রামীণ টেলিকমের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট অর্থ অতিরিক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হলে আগে কেটে রাখা অগ্রিম কর ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, তাঁর মতে, একই অর্থের ওপর দ্বৈত কর আরোপের সুযোগ নেই।
ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শুরু থেকেই উৎসে কর কেটে রাখা হওয়ায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর ফাঁকি বা বকেয়া হিসেবে দাবি করার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ কল্যাণ শেয়ারহোল্ডার হিসেবে নয়, বরং বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। ওই শুনানিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা লিভ টু আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাঠকের মন্তব্য