![]()
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং এসবের পরাজয় নিশ্চিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও বিদ্বেষের মধ্যে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি যে, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই।’ বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই পরিবেশ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের পরিচয় বহন করে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। এ পরিস্থিতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সবার অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট।
রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা ব্যক্তিদের হাতেই এ অপকর্ম সংঘটিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে আবার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার সফলতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস প্রেসিডেন্টকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।
পাঠকের মন্তব্য