![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দূর এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতার জন্য এখন কাকে সামনে রাখা হবে, তা নির্ধারণ করতে সমস্যায় পড়েছে ওয়াশিংটন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইয়ংসটাউনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কিছুটা বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। এর ফলে এখন কার সঙ্গে আলোচনা করা হবে, তা বুঝতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা হয়তো দেশটির নেতাদের ব্যাপারে একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি, কারণ এখন আমরা কার সঙ্গে আলোচনা চালাব তা বুঝতেই হিমশিম খাচ্ছি।’
এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে কেউ আর প্রেসিডেন্ট হতে চাইছেন না। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এ দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্টের বর্তমান অবস্থার তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকেই মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আলোচনার জন্য উপযুক্ত প্রতিনিধি খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে নিজের উদ্বেগ তুলে ধরে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা কার সঙ্গে কথা বলব তা বুঝতেই বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছি। আমার মনে হয় আমরা সত্যিই বেশি দূর চলে গেছি।’
একই সমাবেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও আগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, ইরান তার বিমানবাহিনী এবং বহরের সব ১৫৯টি যুদ্ধজাহাজ হারিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব যুদ্ধজাহাজ এখন সাগরের তলদেশে পড়ে রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার খবরের মধ্যেই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে এসেছে। ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পরিস্থিতি।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত ১৯টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য এবং আলোচনার জন্য প্রতিনিধি খুঁজে পাওয়ার সমস্যার কথা স্বীকার করার বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা বা এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
পাঠকের মন্তব্য