![]()
ইবি রিপোর্ট
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, মুসলিম ভ্রাতৃত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের বিষয়টিও স্মরণ করা হয়।
এ সময় সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠকের প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে।
সাক্ষাতে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে দেশটিতে ট্যাক্সি ও ট্রাক চালক হিসেবে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করেন মাহদী আমিন ও আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থানভিত্তিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচনার অংশ ছিল। এসব খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যমান সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানির মতো ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সামগ্রিকভাবে, বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাঠকের মন্তব্য