![]()
আহমেদ তোফায়েল
বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতের বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা। অনলাইন ব্যবসা অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি করলেও পণ্য সরবরাহ, গ্রাহকের আস্থা, অর্থ পরিশোধ, পণ্য ফেরত এবং ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। এসব বাধা দূর করে খাতটির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন।
ই-ক্যাবের নেতৃত্ব শুধু সংগঠন পরিচালনার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো উদ্যোক্তার স্বার্থ। তাই নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন, যাঁরা ব্যবসার বাস্তবতা বোঝেন, সদস্যদের সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে সক্ষম।
ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে চাই খাত সম্পর্কে ধারণা:
একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া এক বিষয় নয়। প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বাজার ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা দিলেও সংগঠনের নেতৃত্বে প্রয়োজন বিভিন্ন শ্রেণির সদস্যের স্বার্থের সমন্বয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর যোগাযোগ এবং বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা।
সাকিফ শামীম ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ল্যাবএইড গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক। স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা খাতে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ই-ক্যাবের নেতৃত্ব নিয়ে সদস্যদের আলোচনায় তাঁর নামও আসছে। সংগঠনের অনেক সদস্য তাঁকে নেতৃত্বের জন্য যোগ্য মনে করেন বলে জানা যাচ্ছে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থে কাজ করতে হবে:
ই-কমার্স খাতে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা রয়েছেন। তাঁদের অনেকের বড় বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি কিংবা নিজস্ব পণ্য সরবরাহব্যবস্থা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করা উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, নিরাপদ লেনদেন, গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
ই-ক্যাবের উচিত এসব উদ্যোক্তার সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তাদেরও সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনলাইন ব্যবসার বাধাগুলো চিহ্নিত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে।
নীতিনির্ধারণে চাই তথ্যভিত্তিক ভূমিকা:
ই-কমার্সের অনেক সমস্যার সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পণ্য সরবরাহকারী ও প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ই-ক্যাবকে সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তাব তৈরি করে নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরতে হবে।
পণ্য ফেরত আসার কারণে উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ, অনলাইন লেনদেনে আস্থার ঘাটতি এবং ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন নিয়ে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনলাইনে দেশীয় পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়াতেও সংগঠন ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিশ্রুতির চেয়ে ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ:
নতুন নেতৃত্বের একটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা থাকা দরকার। কোন সমস্যা সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, কত দিনের মধ্যে অগ্রগতি দেখা যাবে এবং সদস্যরা কীভাবে কাজের হিসাব জানতে পারবেন—এসব বিষয় পরিষ্কার করতে হবে।
সাকিফ শামীমসহ নেতৃত্বের জন্য বিবেচিত প্রার্থীদের কাছেও এমন পরিকল্পনা প্রত্যাশিত। তাঁদের পরিকল্পনায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধান, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলো থাকা প্রয়োজন।
ই-ক্যাবের সাফল্য শুধু সভা, আয়োজন বা প্রতিশ্রুতির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যাবে না। দেখতে হবে, সংগঠনের উদ্যোগে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা কতটা সহজ হয়েছে এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানে কী অগ্রগতি এসেছে।
ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নেতৃত্বে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রয়োজন দূরদর্শিতা, সমন্বয়ের দক্ষতা ও জবাবদিহি। যাঁরা উদ্যোক্তাদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাঁদের কাজের মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
লেখক: বিজনেস এডিটর, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ।
সাবেক কর্মস্থল: দৈনিক যায়যায়দিন, বর্তমান, দেশ রূপান্তর ও দৈনিক ইত্তেফাক