
ইবি রিপোর্ট
ফেনীর উদ্দেশ্যে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে যাচ্ছেন তিনি। জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাস ঢাকার উদ্দেশ্যস্থল থেকে ফেনীর পথে রওনা হয়। তার সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার উন্নয়ন-প্রত্যাশাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় এক হাজার ২৫০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন।
সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময়েও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় এ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
পরশুরাম থেকে ফুলগাজী যাওয়ার পর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায়ও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এরপর দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন। সেখানে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষ পর্যায়ে বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সফরসূচি অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ফেনী সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৃক্ষরোপণ, কৃষক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও সফরটি ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য