
ইবি রিপোর্ট
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছুটি জাতীয় ছুটি হিসেবে কার্যকর হলে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস-প্রতিষ্ঠানই এর আওতায় থাকবে। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ছুটির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে ২২ অক্টোবরের ছুটির প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি। এ বিষয়ে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়।
ওই কর্মকর্তা জানান, এটি বড় ধরনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আগে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির সুযোগ নেই। আশা করা হচ্ছে, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছুটির বিষয়টি অনুমোদিত হবে। এরপরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
২২ অক্টোবরের ছুটি বেসরকারি খাতের জন্য প্রযোজ্য হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, এটি জাতীয় ছুটি। তাই এ ছুটি সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে।
এর আওতায় সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস থাকবে। অর্থাৎ ছুটির সময়ে এসব অফিস-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
তবে জাতীয় বা সরকারি ছুটির ক্ষেত্রে কিছু জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা সাধারণত ছুটির আওতার বাইরে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাকসেবা।
এ ছাড়া এসব জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকেন। হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী এবং জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অফিসগুলোর ক্ষেত্রেও ছুটি প্রযোজ্য হয় না।
ছুটি ঘোষণার পর ব্যাংকিং কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। একইভাবে আদালতের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করার সময় এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়। ফলে কোন কোন জরুরি সেবা চালু থাকবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তা প্রজ্ঞাপনে পরিষ্কার করা হবে।
সরকারের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি।
এর পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এই দিনটিও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হলে এর পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে।
ফলে ২২ অক্টোবরের ছুটি কার্যকর হলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি পাওয়া যাবে।
সরকারি ছুটির ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ঐচ্ছিক ছুটিসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ ছুটি মূলত বিভিন্ন জাতীয়, ধর্মীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদ্যাপন বা পালনের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এসব ছুটি সাধারণভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য।
২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় এ ধরনের সাধারণ ছুটি রয়েছে ১৪ দিন। এর মধ্যে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, বিজয়া দশমী, বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), বড়দিন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, মহান বিজয় দিবস এবং মে দিবসের মতো দিন রয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাহী আদেশে দেওয়া ছুটি সাধারণত নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়। ঈদের আগে-পরে কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে থাকে।
চলতি বছরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এখন ২২ অক্টোবরও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ দুর্গাপূজার পরদিনও ছুটি থাকবে।
সাধারণত নির্বাহী আদেশে দেওয়া ছুটি সরকারি, আধা সরকারি, সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ছুটির প্রজ্ঞাপনে বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে থাকে।
অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানের অফিসের সময়সূচি ও ছুটির ব্যবস্থা নিজস্ব আইনকানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইনকানুন অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে।
এ ছাড়া যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরিকে সরকার অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করেছে, তারা জনস্বার্থ বিবেচনায় নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী ছুটি ঘোষণা বা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তবে বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত ছুটির দিনগুলো অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও অনুসরণ করে থাকে।
সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে দেওয়া ছুটির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা। ধর্মীয় পর্ব অনুযায়ী একজন কর্মচারী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একজন কর্মচারীকে তাঁর নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে অনধিক তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এজন্য বছরের শুরুতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হয়।
সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করেও ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। কোন ধর্মের কোন কোন ধর্মীয় পর্বে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়া যাবে, সেটিও প্রতিবছরের ছুটির পঞ্জিকায় উল্লেখ করে দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, ২২ অক্টোবরের ছুটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এবার টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ছুটি হিসেবে কার্যকর হলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস-প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় থাকবে।
পাঠকের মন্তব্য