
ইবি রিপোর্ট
নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পিটুপি টাকা পাঠানোর সুবিধা চালু হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করেও লেনদেন করা যাবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কারণে কারও ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা অমূলক। বরং ভবিষ্যতে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।
বাংলা কিউআর লেনদেনে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধিও হয়েছে। গত জুনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন হতো। তখন এসব লেনদেনের দৈনিক গড় অর্থমূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হচ্ছে। এসব লেনদেনের গড় অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, গত ১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। একই সময়ে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কার্যকারিতা, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কার্যকরী কমিটি কাজ করছে।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটিও কাজ করছে। এসব কমিটি বাংলা কিউআর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশল নির্ধারণে কাজ করছে।
মার্চেন্টদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। ওই দিন থেকে কিউআরভিত্তিক লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর অর্থ পাওয়ার জন্য মার্চেন্টদের অপেক্ষা করতে হবে না।
এদিকে ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর দিয়ে অর্থ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের বিনা খরচে অথবা নামমাত্র খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে
বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনা দেবে।
এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।