
ইবি রিপোর্ট
নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া থানাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় সাতজন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় সাতজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ১৩ জন, সেনবাগ থানায় ১১ জন, চাটখিল থানায় ১১ জন এবং চরজব্বর থানায় ১১ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও একজনকে নিয়মিত মামলায় আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। দুজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কবিরহাট থানায় তিনজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে ১০০ টাকা করে জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর একজনকে ১০০ টাকা জরিমানা ও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, অপরাধে জড়িত কিশোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কিশোরদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও চালানো হবে।
পাঠকের মন্তব্য