
ইবি রিপোর্ট
হৃদয়ের কোনো সতর্কসংকেত বা লক্ষণকে উপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই অধিকাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ সচেতন এবং সচেতনতার গুরুত্বও উপলব্ধি করে। কিন্তু অনেক সময় সেই সচেতনতাকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করা হয় না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রবণতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, হৃদয়ের কোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। কোনো ধরনের সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক—সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণেই জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি হৃদয়ের বিভিন্ন সতর্কসংকেত সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
চিকিৎসকদের সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্রষ্টার পরেই চিকিৎসকরাই মানুষের ভরসাস্থল। মানুষের দুঃসময়ে চিকিৎসকরাই সবার আগে পাশে দাঁড়ান।
করোনাকালীন মহামারি থেকে শুরু করে ডেঙ্গু এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এই মানবিকতা এবং পেশাগত দায়িত্ববোধ দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদিরসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদ।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতেও অংশ নেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য