![]()
ইবি রিপোর্ট
ফিফা-আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। এবার সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে জামাল ভূঁইয়ার দল। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে রায়ান স্টুয়ার্টের করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে সিঙ্গাপুর।
জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ১৫ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল জামাল ভূঁইয়ার দল। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার নেওয়া কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হলেও বক্সে থাকা বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় বলের নাগাল পাননি।
১৫তম মিনিটে রাকিব হোসেন বল পায়ে নিয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে সিঙ্গাপুরের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন। তবে তাকে অনুসরণ করে বক্সে ঢোকার মতো সতীর্থ না থাকায় আক্রমণটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
এর আগে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখেন শমিত সোম। সিঙ্গাপুরের জুলকিফলিকে থামাতে পেছন থেকে জার্সি ধরে টানায় তাকে সতর্ক করেন রেফারি।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশ লড়াইয়ে থাকলেও এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সিঙ্গাপুর। ১৬তম মিনিটে ইলহান ফান্দির নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। ওই আক্রমণ থেকে টানা দুটি কর্নারও পায় সিঙ্গাপুর।
৩৩তম মিনিটে আবারও বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা নেন স্বাগতিকরা। বক্সের ঠিক বাইরে ডান দিকে ফ্রি-কিক পায় সিঙ্গাপুর। বিপজ্জনক জায়গা থেকে নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মেহেদী হাসান।
তবে মাত্র দুই মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। ৩৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান রায়ান স্টুয়ার্ট। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর।
গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল সিঙ্গাপুর। ডান দিক থেকে নেওয়া একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে এক গোলের ব্যবধান নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণাত্মক ছিল সিঙ্গাপুর। ৪৭তম মিনিটে নেওয়া একটি শট লাফিয়ে বারের ওপর দিয়ে পাঠান মেহেদী হাসান।
ম্যাচে ফেরার জন্য একের পর এক পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। ৫৭তম মিনিটে শেখ মোরছালিনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিনহাজুল করিম। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের অভিষেক।
এরপর ৭১তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে বাংলাদেশ। শমিত সোমের বদলে মাঠে নামেন সোহেল রানা। একই সময়ে শুকি ইতোফুসাকে তুলে ফাহামিদুল ইসলামকে নামানো হয়।
মাঠে নেমেই বাঁ প্রান্তে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন ফাহামিদুল। তার গতি দিয়ে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশ পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
৭৯তম মিনিটে বাঁ উইং ধরে আক্রমণে উঠে ফাহামিদুল ক্রস করেন রাকিব হোসেনকে লক্ষ্য করে। রাকিবের হেড অবশ্য সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। ম্যাচের শেষদিকে এটিই ছিল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গোলের সুযোগ।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর আশায় রক্ষণ ছেড়ে আক্রমণে উঠে খেলেন হামজা চৌধুরীও। কিন্তু সিঙ্গাপুরের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর আরও ছয় মিনিট যোগ করা হয়। ওই সময়েও বাংলাদেশ বেশ কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোল আর আসেনি।
শেষ পর্যন্ত রায়ান স্টুয়ার্টের ৩৫তম মিনিটের গোলটিই হয়ে থাকে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর। অন্যদিকে ফিফা-আসিয়ান কাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
পাঠকের মন্তব্য