
ইবি রিপোর্ট
পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মধ্যেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, পশ্চিমা নেতারা চাপের মুখে নতি স্বীকার করলেও ইসরায়েল তা করবে না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে গাজায় ‘কাজ শেষ করতে হবে’।
তার বক্তব্য শুরু হওয়ার সময় বহু দেশের প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এর ফলে বক্তব্যের সময় সভাকক্ষের বেশ কিছু আসন খালি দেখা যায়।
ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন। তিনি বলেন, জিম্মিদের ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত ইসরায়েল থামবে না। একই সঙ্গে হামাসের প্রতি অস্ত্র ছেড়ে জিম্মিদের মুক্ত করার আহ্বান জানান এবং তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্য গাজায় লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সম্প্রচার এবং সেখানকার মানুষের মুঠোফোনে পৌঁছে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি গাজা, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকি মিলিশিয়াসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও নেতানিয়াহু প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, হামাস ত্রাণ চুরি করে যুদ্ধের অর্থায়ন করছে। তবে মার্কিন সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে গাজায় পাঠানো ত্রাণ হামাসের পদ্ধতিগত লুটপাটের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ইসরায়েল অবশ্য গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ও পরে নিউইয়র্কে তার সফর ও গাজায় ইসরায়েলের অভিযানবিরোধী বিক্ষোভও হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ ভাষণটির সমালোচনা করে বলেন, এতে জিম্মিদের মুক্তির জন্য কোনো নতুন শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়নি।
পাঠকের মন্তব্য