
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যেকোনো পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার ‘শর্তহীন’।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এ কথা বলেন। ইয়েমেনের হুথি মিলিশিয়ার হামলার মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা বাড়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, কূটনৈতিক ও শারীরিক—উভয়ভাবেই পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার কোনো শর্তের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইএসপিআর মহাপরিচালক বলেন, পাকিস্তানের এই অঙ্গীকারের মধ্যে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাও অন্তর্ভুক্ত। হারামাইন শরিফাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সেখানে উপস্থিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সৌদি আরবকে রক্ষা করে যাবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইফের আকাশে একটি ড্রোন বাধা দেওয়ার পর সেটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসকারী এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষিত এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টা নিয়েও কথা বলেন আহমেদ শরিফ চৌধুরী।
তিনি জানান, সংঘাতের আলোচনার মাধ্যমে ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত না করে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান।
এদিকে সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ‘মক্কা চুক্তি’ নামেও পরিচিত।
চুক্তির আওতায় এক দেশের বিরুদ্ধে কোনো দেশ সামরিক হামলা চালালে তা জোটের সব সদস্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে—এমন ব্যবস্থা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তানের শর্তহীন অঙ্গীকারের বক্তব্যকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবেও পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য