
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বুধবার গুলশানে এফবিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন।
রাষ্ট্রদূত জানান, নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যেই মস্কোতে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রুশ রাষ্ট্রদূত।
ফোরামে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক প্রোফাইল ও আগ্রহের ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশন আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়াতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিক খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি রাশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে মানবসম্পদ রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন।
তিনি বলেন, রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও দেশটিতে ভালো চাহিদা রয়েছে। ফলে এসব খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাশিয়ার বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন জানান, প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন। আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
এদিকে বুধবার বিকেলে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি।
বৈঠকে তিনি জানান, আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে মেলায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’-এ বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন।
পাঠকের মন্তব্য