
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ফ্রান্সের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ফ্রান্স বাংলাদেশের একজন পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক গন্তব্য হচ্ছে ফ্রান্স। ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস গঠনের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয় এবং তারা কখনো স্বৈরাচারী শাসনের কাছে নিজেদের বশ্যতা স্বীকার করেনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা সমুন্নত রেখেছে।
আলোচনার সময় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফ্রান্সের নাগরিক আন্দ্রে মারলোর ভূমিকারও প্রশংসা করেন স্পিকার।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতি আন্দ্রে মারলোর অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধি দল দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে।
প্রতিনিধিদল ফ্রান্স-বাংলাদেশের সংসদীয় কমিটি গঠন এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের কূপ অনুসন্ধান ও খননের ওপর জোর দেন তাঁরা।
ফরাসি সংসদীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সংসদীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।
সাক্ষাতের একপর্যায়ে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধি দল দেশটির সিনেটের পক্ষ থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সফর ও সংসদীয় যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, ফরাসি দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য