
ইবি রিপোর্ট
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়া এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেই হয়তো আওয়ামী লীগ এসব বিক্ষোভ মিছিল করার সাহস দেখাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে জামায়াতে ইসলামী বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এবারও আওয়ামী লীগ জামায়াতের কারণে আন্দোলন করার সাহস পাচ্ছে।’
জামায়াত নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলে তাদের আপত্তি নেই। তবে তার দাবি, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, ‘জামায়াত নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা বলতে চাই, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর মেনে নেবে না।’
রাশেদ খান আরও বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। এসব আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চায়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ নেন রাশেদ খান। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
র্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কার্যক্রমে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাঠকের মন্তব্য