
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির প্রাক্কলন অনুসারে, ইরান যুদ্ধের কারণে ছয় মাসে মার্কিনীদের জ্বালানি বাবদ ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে—আর এই অঙ্ক প্রতি দুই মিনিটে ১ মিলিয়ন ডলার করে বাড়ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে গ্যাসোলিন (পেট্রোল) ও ডিজেলের দাম পর্যবেক্ষণ করছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন স্কুল অভ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স-এর’ইরান ওয়ার এনার্জি কস্ট ট্র্যাকার।
দেশজুড়ে আনুমানিক ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাব ধরলে, প্রতিটি পরিবারের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৬৩ ডলার।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনেকটাই অজনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ইরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
গত মাসে নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প মার্কিনিদের পেট্রোলের এই বাড়তি দাম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘অত্যন্ত একটি ভয়ংকর দেশ’ যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য ‘পেট্রোলের জন্য সামান্য একটু বেশি দাম’ দেওয়াই যায়।
১৪ আগস্টের ওই সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে…খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’
সোমবার পর্যন্ত পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.১৫ ডলার—যা লেবার ডে উইকএন্ডে জাতীয় রেকর্ড। এই ছুটির দিনগুলোতে এবারই প্রথম পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।
এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান এই দাম ২০১২ সালে লেবার ডে-তে হওয়া আগের রেকর্ড ৩.৮২ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি।
তবে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ট্র্যাকার অনুযায়ী, অনেক অঙ্গরাজ্যের পাম্পগুলোতে এর চেয়েও অনেক বেশি দাম রাখতে দেখা যাচ্ছে। সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ায় পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৫.৮৬ ডলার, হাওয়াইতে ছিল ৫.৩৯ ডলার।
যুদ্ধের কারণে হওয়া এই অতিরিক্ত খরচের বড় অংশই পেট্রোলের পেছনে গেছে। তবে শুক্রবার ডিজেলের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে; এরপর থেকে তা ক্রমাগত বাড়ছে।
এএএর তথ্যানুসারে, সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ছিল ৫.৯০ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
ব্রাউনের ট্র্যাকার অনুসারে, টেক্সাসের ভোক্তাদের খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানকার ভোক্তারা পেট্রোল ও ডিজেলের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ করেছেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার বাসিন্দারা যথাক্রমে প্রায় ৮ বিলিয়ন ও ৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ করেছেন।
ট্রাম্প শুরুতে দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ স্থায়ী হবে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ। তিনি এখনো বলছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে মার্কিনীরা পেট্রোল পাম্পে বেশি দাম দিতে ইচ্ছুক। তবে জনমত জরিপের তথ্য বলছে, যুদ্ধ পরিচালনায় তার নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে বেশিরভাগ মার্কিনী সমর্থন করেন না।
যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম ‘হুড়মুড় করে কমে যাবে’ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি তিনি বারবার দাবি করছেন, যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে, ইরানের সামরিক বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে।