
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে সাগরে ভাসমান একটি নৌকা থেকে ৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। একই নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্পেনের উদ্ধারকারীরা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় নৌকাটির সন্ধান পায় স্পেনের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড সেফটি সোসাইটি।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে শতাধিক মানুষ ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নৌকাটি প্রায় ২৬ দিন ধরে আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসছিল। গত ৭ আগস্ট পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করেছিল নৌকাটি।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আরগুইনেগুইন শহর থেকে প্রায় ৬৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে নৌকাটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেয়।
পরে রাত ১১টার দিকে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌকাটিতে থাকা ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া সবাই সাব-সাহারান আফ্রিকার নাগরিক বলে জানিয়েছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। তাদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্য উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার ভোরে আরগুইনেগুইন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে নৌকাটিতে থাকা অন্য যাত্রীদের ভাগ্যে ঘটে ভয়াবহ পরিণতি। দীর্ঘ সময় খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে সাগরে ভাসতে থাকার পর ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ঘটনাটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের অভিবাসন সংকট ও আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। উন্নত জীবনের আশায় পশ্চিম আফ্রিকা থেকে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করা অভিবাসীদের অনেকেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ক্লাভিহো এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আটলান্টিক মহাসাগর যেন মানুষের মৃত্যুর পথে পরিণত হয়েছে—এ বিষয়টিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার কারণে অভিবাসীদের জীবনহানির ঘটনা বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিখোঁজ ও বিপদে পড়া অভিবাসীদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য সমুদ্রপথে নজরদারি এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
পাঠকের মন্তব্য