![]()
ই-বাংলাদেশ রিপোর্ট
চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে উন্নয়ন বাজেট থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে অর্থ বিভাগ জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য একটি পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার পর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিকল্পনাটিতে দীর্ঘদিনের এই সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান সংসদ অধিবেশনে পরিকল্পনাটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বাজেটে ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাষ্ট্রীয় ছাতাসংগঠনকে অর্থ দেওয়ার জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পৌঁছানোর জন্য বর্তমানে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
তবে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অর্থ বিভাগকে ওই বরাদ্দ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে বিশেষ করে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ওই অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একটি বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে অর্থায়নের জন্য অন্যান্য উৎসও খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে বলা হয়েছে, এখনই সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া গেলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে আগামী বছর বিদ্যুতের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে এড়ানো সম্ভব হতে পারে। অর্থ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের জন্য আমরা আর কোনো স্বল্পমেয়াদি সমাধান খুঁজে পাইনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর গেল সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বেসরকারি খাতের নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ থেকে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহযোগিতা চান।
সূত্র জানায়, বৈঠকে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা অধিকসংখ্যক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা চেয়েছেন। একই সঙ্গে আমদানির সময় যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ শুল্কসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে সম্মতি জানিয়েছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব অর্থের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর এই উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য সরকার সম্ভবত ২ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করছে। চলমান বিদ্যুৎ সংকট থেকে সত্যিকার অর্থে বেরিয়ে আসতে চাইলে সরকারকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। কারণ বিদ্যুৎ সংকট সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে দেশের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর প্রধান বাধা হলো আমদানির পর্যায়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক, যা প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। সরকার শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করলেও বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা এবং এসআরও বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রণমূলক আদেশের কারণে বাস্তবে সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে ১ হাজার ৮২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বাস্তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ থেকে ১৫ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
পাঠকের মন্তব্য