
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত লং মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পথে পথে আরও বিপুলসংখ্যক গাড়ি ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন বলে আশা করছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে সমবেত হয়ে সেখান থেকে চট্টগ্রামের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত লালদীঘি ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা হবে। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে অন্তত ছয় থেকে সাতটি স্থানে দলটির নেতারা পথসভা করবেন। এসব পথসভায় জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেবেন।
নয় জেলা ও মহানগর শাখার প্রস্তুতি
লং মার্চ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নয়টি জেলা ও মহানগর শাখার নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক চলছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী এবং চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার সংশ্লিষ্ট নয়টি শাখাকে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব শাখার আমির ও নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবির এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও প্রস্তুতি সভায় অংশ নিচ্ছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে থাকা জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া চাওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, লং মার্চে হাজারের বেশি গাড়ি থাকার প্রস্তুতি রয়েছে। পথে বিভিন্ন স্থান থেকে আরও হাজার হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে। ফলে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে দলটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।
লং মার্চে থাকছে বিভিন্ন বিভাগ
বড় এই কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য একাধিক বিভাগ গঠন করেছে জামায়াত। এর মধ্যে রয়েছে অভ্যর্থনা, মেডিকেল, পরিবহন, প্রচার-প্রকাশনা, আইটি, স্বেচ্ছাসেবক, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক যোগাযোগ বিভাগ।
এসব বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে সমন্বয় সভাও হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টায় শুরু হওয়া লং মার্চ রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। দীর্ঘ সময়ের এই কর্মসূচিতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
লং মার্চকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট, পোস্টার, স্টিকার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রচারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও থিম সংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ
লং মার্চের রুট ও সময়সূচি পুলিশকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-সিলেট রুটের কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে শিডিউল দেওয়া হয়েছে।
সিলেট রুটে ট্রেনে কর্মসূচি এবং খুলনার রুটে কুষ্টিয়া পর্যন্ত কর্মসূচি যাওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোথায় কোথায় কর্মসূচি ও পথসভা হবে, সেই তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ট্রাফিক ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টদেরও বিষয়টি অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘লং মার্চ হবে শান্তিপূর্ণ’
জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জনগণের বৈধ ও ন্যায্য দাবি আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই লং মার্চ আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ না নেওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি সংস্থার গোয়েন্দা বিভাগ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করবেন।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাইল জামায়াত
লং মার্চের বিষয়ে বিএনপি, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের দাবি, গণদাবি ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলোকে তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখছেন। এসব দাবি পূরণের কর্মসূচিতে ১১ দলের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও সহযোগিতা ও দোয়া প্রত্যাশা করেন তারা।
যানজটের জন্য আগাম দুঃখপ্রকাশ
বড় আকারের গাড়িবহর নিয়ে লং মার্চ হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তি হতে পারে—এ বিষয়টিও স্বীকার করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি জানান, মহাসড়কে একটি রোড দিয়ে লং মার্চ পরিচালনা করে অন্য রোডটি সাধারণ যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে হাজার হাজার গাড়ি চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে যাত্রাবিরতি ও পথসভার কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক যানজট তৈরি হতে পারে।
এ কারণে পথের দুই পাশের বাসিন্দা, দোকানদার, ফেরিওয়ালা, রিকশাচালক, দিনমজুর ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে আগাম দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে কারও সামান্য কষ্ট বা ভোগান্তি হলে তার জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগাম ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনের পর প্রথম বড় কর্মসূচির দাবি
মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলের ঐক্যের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে যাচ্ছে এই লং মার্চ।
তিনি বলেন, জনগণের গণআকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ দলটির অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য