
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
৫ আগস্টের পর জনগণ ফ্যাসিবাদের অবসান হয়েছে বলে আশা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারও দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে, একই পথে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সীরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমানের অভিযোগ, জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে ৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে তাকিয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক অধিকার ও জবাবদিহিতার নতুন ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
‘ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে জনগণ বিতাড়িত করবে’
জামায়াত আমির বলেন, দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের কোনো চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে একই ধরনের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদেরও আওয়ামী লীগের মতো প্রত্যাখ্যান ও বিতাড়িত করবে।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যে সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে তার দলের অসন্তোষের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের রাজনৈতিক প্রবণতা অব্যাহত রাখলে তার পরিণতিও একই হতে পারে।
‘জুলাই জাদুঘর থেকে অনেক উপাদান গায়েব’
সেমিনারে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ একটি রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য জুলাই জাদুঘরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরিয়ে দেওয়া বা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
তার দাবি, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রেও পক্ষপাত করা হচ্ছে। একটি দল ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দলের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন দল ও মানুষের ভূমিকা রয়েছে। তাই ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সব পক্ষের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
পরিবর্তনের পর নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল
৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণ আশা করেছিল কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির অবসান ঘটবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
কিন্তু বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রবণতা দেখা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের জনগণের প্রত্যাশার প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকার বা রাজনৈতিক শক্তি জনগণের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা, অধিকার এবং মতামতকে উপেক্ষা করলে রাজনৈতিকভাবে তার প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
সীরাতুন্নবী থেকে নৈতিকতার শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান
সীরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ন্যায়বিচার, মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা, সততা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শফিকুর রহমানও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তার বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
সেমিনারে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশে ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পাঠকের মন্তব্য