ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিগত ১৭ বছরে বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ‘ক্রসফায়ারের’ শিকার হয়েছেন এবং সাত শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় এখনো অনেক পরিবার অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া সাত শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা এখনো তাদের প্রিয়জনের ফিরে আসার আশায় দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি বলেন, অনেক স্বজন এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে নিখোঁজ প্রিয়জনের ফিরে আসার প্রতীক্ষা করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি।
জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রশংসা
আলোচনা সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার পাশাপাশি তার স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের কথা তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন। তার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন স্ত্রী পাশে ছিলেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কাজের ছায়াসঙ্গী ছিলেন খালেদা জিয়া।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার সময় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন গৃহবধূ। দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে তখন তাকে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। একই সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থাও ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
এ অবস্থায় বিএনপির সিনিয়র নেতারা খালেদা জিয়াকে দলের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে তিনি দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী।
‘আপসহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া’
আসাদুজ্জামান বলেন, একদিকে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে, অন্যদিকে তাকে গোটা বিএনপি পরিবারের নেতৃত্বও দিতে হয়েছে।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া একজন আপসহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য খালেদা জিয়া ছিলেন মুক্তির দিশারি। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যোগসূত্র
বক্তব্যে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাইকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তবে এই আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতাও রয়েছে।
আসাদুজ্জামানের দাবি, বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক সংগ্রাম হয়েছে, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
আলোচনা সভায় স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি
বরিশালের গৌরনদীতে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য