![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় একের পর এক নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শুধু আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে এ সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের বড় ঘাটতি পূরণে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি দেশের স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন, রিগে বিনিয়োগ এবং ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) সিসমিক জরিপ বাড়ানো জরুরি।
এরই মধ্যে মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীনের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পটুয়াখালীর পায়রা, বাগেরহাটের মোংলা এবং খুলনার হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে।
তবে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বাড়ানোর আগে বর্তমান টার্মিনালগুলোর সীমাবদ্ধতা, আমদানি ব্যয়, ভর্তুকির চাপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আট বছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা
বাংলাদেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয় ২০১৮ সালে। এরপর ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত আট বছরে এলএনজি আমদানিতে ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে সরকারকে এলএনজিতে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
এলএনজি আমদানির ব্যয় সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যেখানে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি হয়েছিল, আট বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অর্থাৎ দেশের গ্যাস চাহিদা মেটাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের ওপর আর্থিক চাপও বেড়েছে। নতুন নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে গ্যাস আমদানির ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এগুলোর দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা মোট ১১০ কোটি ঘনফুট। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া প্রায় ৩ লাখ ডলারের কাছাকাছি।
গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট
দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। আগামী বছরগুলোতে এই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলার চলমান ৫০ কূপ খনন প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে পরিচালিত দ্বিমাত্রিক বা টুডি সিসমিক জরিপের তথ্য-উপাত্তের সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণ।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টুডি সিসমিক সার্ভের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কূপ খনন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের সন্ধান মেলেনি। আবার যেসব কূপে গ্যাস পাওয়া গেছে, সেখানেও প্রাক্কলনের তুলনায় উৎপাদন কম হয়েছে।
ফলে কোথায় গ্যাসের মজুদ রয়েছে এবং কূপ খনন করলে কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে—এ বিষয়ে আরও নির্ভুল ধারণা পেতে থ্রিডি সিসমিক জরিপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
টুডির পাশাপাশি থ্রিডি জরিপে গুরুত্ব
প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধানে টুডি সিসমিক জরিপ ব্যবহার করে ভূগর্ভের বিভিন্ন স্তর এবং সম্ভাব্য গ্যাসের মজুদের বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ ধরনের কম্পনযন্ত্রের মাধ্যমে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করে ভূগর্ভের স্তরের একটি দ্বিমাত্রিক চিত্র তৈরি করা হয়।
তবে নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাসের মজুদের অবস্থান ও কাঠামো সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে থ্রিডি সিসমিক জরিপ গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভূগর্ভের গঠন তুলনামূলকভাবে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, দেশের বর্তমান গ্যাস সংকটের বাস্তবতায় শুধু এলএনজি আমদানি বা নতুন টার্মিনাল নির্মাণ যথেষ্ট নয়। স্থল ও সমুদ্রভাগে আরও বেশি গ্যাস অনুসন্ধান এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তার মতে, গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত করতে টুডি ও থ্রিডি তথ্য-উপাত্ত আরও বেশি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
পুরনো তথ্যের ওপর নির্ভর করে কূপ খননে ঝুঁকি
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, আগের সরকারের নেওয়া ৫০ কূপ খনন প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে না। এরই মধ্যে অনেক কূপে গ্যাস পাওয়া যায়নি। আবার কিছু কূপে শুরুতে ভালো উৎপাদন থাকলেও পরবর্তী সময়ে উৎপাদন কমে গেছে।
কর্মকর্তারা পুরনো টুডি সিসমিক তথ্যের সীমাবদ্ধতাকে এ ধরনের ফলাফলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে অনুমাননির্ভর কূপ খনন করে অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই।
বরং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপ খননের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ করা হলে গ্যাসের উপস্থিতি ও সম্ভাব্য মজুদ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
দুই দশকে গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ মাত্র ৮ হাজার কোটি
দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত টুডি সিসমিক জরিপ হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৪৩ লাইন কিলোমিটার। আর থ্রিডি সিসমিক জরিপ হয়েছে ৭ হাজার ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায়।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি এসব সিসমিক সার্ভে পরিচালনা করেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরনো টুডি জরিপের ওপর ভিত্তি করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব কূপ খনন করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়নি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস অনুসন্ধানে গত দুই যুগে সরকার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আওতায় কূপ খননে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে কূপ খননসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে আরও অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বাপেক্স ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৬৬ লাইন কিলোমিটার টুডি সিসমিক সার্ভে এবং ৩৮০ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সিসমিক সার্ভে করেছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েবের মতে, থ্রিডি সার্ভের পরিমাণ বাড়ানো গেলে কূপগুলোর মজুদ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে এবং গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সহজ হবে। পেট্রোবাংলা বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় থ্রিডি প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রিগের সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ
দেশে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদনও ধীরে ধীরে কমছে। সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন কমার প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনাবিষ্কৃত এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা ও চরাঞ্চলে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে এসব এলাকায় বড় পরিসরে অনুসন্ধান ও কূপ খনন করতে হলে প্রয়োজনীয় রিগের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। বর্তমানে পেট্রোবাংলার অধীনে পাঁচটি রিগ কূপ খননে কাজ করছে। আরও দুটি রিগ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুর্তজা আহমদ ফারুক স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ডিপ ড্রিলিং বা গভীর কূপ খননের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং পুরনো তথ্য-উপাত্তে গ্যাসের সম্ভাবনা থাকা এলাকাগুলোতে নতুন করে অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শুধু জরিপ নয়, কূপ খননও জরুরি
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরীর মতে, গ্যাসের মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে যত বেশি তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ পাওয়া যাবে, ততই ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
তার মতে, টুডি ও থ্রিডি সিসমিক জরিপের পাশাপাশি ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণের মানও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত গ্যাসের প্রকৃত উপস্থিতি ও উৎপাদন সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য কূপ খননই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের পুরনো টুডি জরিপ ব্যবহার করেও অতীতে বড় বড় গ্যাসকূপ আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে বর্তমানে কূপ খনন করে প্রত্যাশিত গ্যাস না পাওয়ার ঘটনা বাড়ায় তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এ ক্ষেত্রে থ্রিডি জরিপের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার ধারণা নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
নতুন এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা
গ্যাস সংকটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সরকার এলএনজি টার্মিনাল বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। এলএনজি টার্মিনালে আগুন এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে সম্প্রতি দুই সপ্তাহের বেশি সময় দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়েন।
সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করলেও ভবিষ্যতের গ্যাস চাহিদা পূরণে সরকার নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর পায়রা, বাগেরহাটের মোংলা ও খুলনার হিরণ পয়েন্টে তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কথা জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এর আগে মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীনের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, এলএনজি টার্মিনাল বাড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ ঘাটতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই নতুন টার্মিনালের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সমান বা আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
টেকসই সমাধান কোথায়
বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা প্রতিবছর বাড়ছে, বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন ক্রমেই কমছে। এই ব্যবধান পূরণে এলএনজি আমদানি একটি দ্রুত সমাধান হলেও এর সঙ্গে বড় আর্থিক ব্যয় ও বৈশ্বিক বাজারের দামের ঝুঁকি রয়েছে।
ইতোমধ্যে এলএনজি আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং সরকারের বড় অঙ্কের ভর্তুকির প্রয়োজন হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে একাধিক নতুন টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়লে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে—দেশের স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান বাড়ানো, নতুন কূপ খনন, ডিপ ড্রিলিংয়ে বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় রিগের সংখ্যা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্ভাবনাময় এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ সম্প্রসারণ।
অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানি সরবরাহ ঘাটতি সামাল দিতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় গ্যাসের মজুদ খুঁজে বের করা ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। নতুন এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি এই জায়গায় বিনিয়োগ বাড়ানোই হতে পারে বাংলাদেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলার তুলনামূলক টেকসই পথ।
পাঠকের মন্তব্য