![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফি দেওয়া যাবে। সোমবার ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এই বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এই নতুন নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। ফলে বিদেশে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের ফি জমা দেওয়ার জটিলতা কমে আসবে।
অনেক বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সিস্টেমে কার্ডের মাধ্যমে ফি নিয়ে থাকে। ভর্তি বা এনরোলমেন্ট প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের পেমেন্ট ব্যবস্থা বেশি দেখা যায়। এই বৈধ লেনদেনগুলো সহজ করার জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো শিক্ষাসংক্রান্ত খরচের জন্য বিশেষ আন্তর্জাতিক কার্ড দিতে পারবে। এর ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অর্থ পাঠাতে আর কোনো বাধা থাকবে না।
আগের বছরের সেপ্টেম্বর মাসের একটি নির্দেশনার কথা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধাটি সহজেই নিতে পারবেন। স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের ভাষা শিক্ষা কোর্সের শিক্ষার্থীরাও কার্ডের মাধ্যমে ফি দিতে পারবেন। পেশাদারি ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সের খরচও এই নিয়মের অধীনে পরিশোধযোগ্য। সব মিলিয়ে নিয়মিত কোর্সে অধ্যয়নরতদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের নামে এই বিশেষ আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করতে পারবেন। আবার যিনি পড়াশোনার খরচ বহন করছেন তার নামেও কার্ড নেওয়া যাবে। ব্যাংকগুলো ডেবিট বা প্রিপেইড কার্ড হিসেবে এটি গ্রাহকদের দিতে পারবে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাংক নিজস্ব নিয়ম ও নীতি অনুসরণ করবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে করা লেনদেন সাধারণ ভ্রমণ কোটার অংশ হবে না। এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি সুবিধা হিসেবে ব্যাংকগুলোর নথিতে হিসাব করা হবে। এই সুবিধা শুধু শিক্ষাসংক্রান্ত খরচ মেটানোর জন্যই ব্যবহার করার বিধান রয়েছে। অন্য কোনো প্রয়োজনে এই নির্দিষ্ট কার্ড দিয়ে কোনো লেনদেন করা যাবে না। নিয়মটি নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে আলাদাভাবে নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লেনদেন চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। গ্রাহক পরিচিতি বা কেওয়াইসি ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করা একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধের নিয়মগুলোও ব্যাংককে মানতে হবে। চলমান বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে ব্যাংক এসব যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্যাংক কার্ডটিতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা লোড করে দেবে।
কার্ডে ঠিক ততটুকু পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে যতটুকু প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন। লোড করা এই অর্থের মেয়াদও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বৈধ লেনদেন শেষ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রকৃত সুবিধাভোগী বা নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন অর্থ পায় তা দেখতে হবে। ব্যাংকগুলোকে এই পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য