![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
নাম উল্লেখ না করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা একই পথে হাঁটছেন, তাদেরও শেষ পর্যন্ত পালাতে হবে। তিনি দাবি করেন, এটি পালানোর পথ এবং এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা শহীদ সাইফুল্লাহ বারী হত্যার বিচার এবং দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ।
সমাবেশে শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সে পথেই আপা হেঁটেছিলেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন—আপা পালায় না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্লোগান উঠেছে—পালাইছে রে, পালাইছে—আপা পালাইছে।’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং যারা সে পথে হাঁটবেন, তাদেরও পালাতে হবে। কারণ, এই পথ পালানোর পথ; এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি।’
দেশে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলার মাটিতে কোনো ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং কোনো ফ্যাসিবাদ বরদাশত করা হবে না। ফ্যাসিবাদের সব পথ বন্ধ করে জনগণের রায় মেনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কাপুরুষ নই, দুর্বল নই। জাতির প্রয়োজনের সময় আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই।’
কাপুরুষতার সংজ্ঞা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা অপরাধ করে, দখল-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার করে, তারাই প্রকৃত কাপুরুষ। মা-বোনের সম্মানহানি করে এমন ব্যক্তিকেও তিনি কাপুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। এমনকি নিজের সন্তান হলেও অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশে খুন, হত্যা ও নানা ধরনের অপরাধ বেড়েই চলেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বিশেষ করে নিহত ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সারা দেশে খুন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে সোমবার সকালে সাঘাটার বোনারপাড়ায় পৌঁছে নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত করেন জামায়াত আমির। পরে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং রাজনৈতিক পরিবেশে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার ওপরও সমাবেশে গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান।