![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমাদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয়ে যান ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল। জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি অলি আহমাদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে তারা প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছেন না। বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা। এই পদেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তাহলে গণতন্ত্রের চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণেই ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।
‘এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে অলি আহমাদ জিততেন’
হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, সংসদ সদস্যরা যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন, তাহলে তাদের মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমাদ বিজয়ী হতে পারতেন।
তার ভাষ্য, সংস্কার বাস্তবায়ন হলে অলি আহমাদ একজন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখতেন। তিনি বলেন, একজন দক্ষ, যোগ্য ও বর্ষীয়ান ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
এ সময় বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তার অভিযোগ, গণভোটের রায় ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়নি।
‘গণতান্ত্রিক ধারাকে ফিরিয়ে আনতেই প্রার্থী’
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন জোট প্রার্থী দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, তাদের কাছে জয়-পরাজয়ের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও এর বাইরে নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না থাকলে জনগণের কাছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না।
জোটের এই সমন্বয়ক আরও বলেন, তারা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে চান। রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের অধিকার যেসব কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্যই তারা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদাহরণ
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ওই সময় রাজনৈতিক সমীকরণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সে সময় জামায়াত বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের সম্ভাবনা না থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই অলি আহমাদকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আযাদের দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রতিফলন ঘটত।
সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি
সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক। তার দাবি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা আরও বাড়ত এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও তার প্রভাব পড়ত।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত করে এমন বিষয়গুলোও সামনে আনার চেষ্টা করছেন তারা।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় জামায়াতের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কামাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সালসহ জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমাদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক দলগুলোর।
পাঠকের মন্তব্য