![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির আভাস
হরমুজ প্রণালি পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে ইরান তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে থাকা বাধা দূর করার লক্ষ্যে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন। চুক্তি ঘোষণা হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে মার্কিন ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হবে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’। অর্থাৎ, ইরান চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করছে, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
হরমুজের প্রবেশপথ ইরান, বহির্গমন ওমানের নিয়ন্ত্রণে
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত একটি অস্থায়ী চুক্তির বিষয়ে ইরান এখন তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিগগিরই এ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরান সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের পথ ইরান এবং বহির্গমনের পথ ওমান নিয়ন্ত্রণ করবে।
তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনও যুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোও প্রস্তাবিত চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
জাহাজ চলাচলে থাকবে না টোল বা পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি নেওয়া হবে না।
মার্কিন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তখনই এই চুক্তিকে সমর্থন করবে, যখন জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ফি কিংবা অতিরিক্ত বাধা থাকবে না। বিশেষ করে আগে থেকে কোনো অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না।
এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
৬০ দিনের অস্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরেই ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে নানা খবর প্রকাশিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য চুক্তিটি ৬০ দিনের জন্য কার্যকর একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে।
এই সময়ের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত জুনেও দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা কার্যকর হয়নি।
ট্রাম্পের হামলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পর নতুন আলোচনা
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে সমঝোতার উদ্যোগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই তিনি সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে আসছেন।
বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিরসনের পথ খোঁজার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক তেল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।
পাঠকের মন্তব্য