![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে স্থানীয় সরকারের মোট পাঁচটি স্তর রয়েছে এবং সরকার চায় চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে। তিনি জানান, আগস্ট মাসের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠক করে কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে যা বললেন
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি দেশে ফেরার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতের রায় হয়েছে। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায় কার্যকর করা হবে।
সিলেটের পরিচ্ছন্নতায় সন্তোষ
সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের অন্যান্য নগরের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। বিশেষ করে খাল খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে সিসিক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, সিলেটের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য উদ্যোগ হতে পারে।
পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি চালু হলেও তা এতদিন পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালিত হয়নি। এখন প্রকল্পটি পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নগরের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পর প্লাস্টিকজাতীয় অংশ লাফার্জহোলসিম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে। অন্যদিকে অবশিষ্ট জৈব বর্জ্যকে পরিবেশবান্ধব জৈব সারে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট সিলেটে
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যান্ট চালু হলে সিলেটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, বায়োড্রায়িং প্রযুক্তির মাধ্যমে অণুজীবের স্বাভাবিক বিপাকীয় তাপ এবং নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে গৃহস্থালি বর্জ্য, স্যুয়ারেজ স্লাজ ও কৃষিজ বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত অপসারণ করা হবে। এর ফলে বর্জ্য উচ্চ তাপমাত্রার জ্বালানিতে রূপান্তরের উপযোগী হবে। বাংলাদেশের মতো উচ্চ আর্দ্রতাযুক্ত বর্জ্যের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।
উপস্থিত ছিলেন যারা
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খান, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের নির্বাচন পরিকল্পনা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পাঠকের মন্তব্য