![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশ ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সামনে নতুন একটি চুক্তি অথবা ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’-এর শর্ত তুলে ধরার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ওমানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতি এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন প্রজন্মের ড্রোন ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা জানিয়েছিলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কখনো বন্ধ হয়নি। বরং যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডার নিহত হলেও সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো ভাটা পড়েনি।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময়েও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত ছিল এবং বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতা আরও উন্নত করা হয়েছে। যদিও তারা নিজেদের অস্ত্রভান্ডারের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও ইরানের যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ড্রোনের প্রায় ৪০ শতাংশ অক্ষত রয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার হোসেন কানানি মোকাদ্দম দাবি করেন, হাজারো হামলার পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষ্য, দেশটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে এখনো বিপুল অস্ত্র মজুত রয়েছে এবং নতুন নতুন স্থাপনাও কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুরো সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত অঞ্চলেও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে না।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইয়েমেনে হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, কুয়েতে বিস্ফোরণের ঘটনা এবং ওমান উপকূলে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের মতো একাধিক ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এসব ঘটনার কিছু বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ—উভয় দিকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।