![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন, ডেভিড ইমন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে তার ভারতে পৌঁছানোর কথা ছিল। সীমান্তের এপারে তাকে পার করে দেওয়ার ব্যক্তি এবং ভারতের অংশে তাকে গ্রহণ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া আধার কার্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেখানে ডেভিড ইমনের ছবি থাকলেও নাম ব্যবহার করা হয়েছে ‘আজাহার খান’। কার্ডে জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ১২ মে ১৯৯৮। পুলিশ বলছে, ভারতে প্রবেশের পর এই পরিচয়পত্র ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই আধার কার্ডটি সঙ্গে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমনের কাছে উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডের উৎস, এটি কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তপথে পালানোর পুরো নেটওয়ার্কও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (২৯ জুলাই) যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। অভিযানে সহায়তা করে যশোর জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন ডেভিড ইমন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ গুরুতর অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সংঘটিত একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও ডেভিড ইমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধচক্র, সহযোগী এবং সীমান্তপথে পালানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই ঘটনায় আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তাই উদ্ধার হওয়া আধার কার্ড, সীমান্তে যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য