![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একাধিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, গোপনে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বাহরাইন ও কুয়েত। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে দেশ দুটির এটি হবে প্রথম সরাসরি সামরিক অভিযান। তবে কুয়েত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুতে পরিচালিত ওই অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সূত্রগুলোর দাবি, এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সামরিক সমন্বয় এবং আকাশপথে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে অভিযানকে সফল করতে ভূমিকা রাখে দেশটি।
এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরীয় এই দুই দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় সেগুলোকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত ও বাহরাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া সব বৈধ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আল-জেইন আল-সাবাহ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, কুয়েত ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি এবং নিজেদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করার অনুমতিও দেয়নি।
অন্যদিকে, বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে কঠিন কৌশলগত সংকটের মুখে রয়েছে। একদিকে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের নিরাপত্তা সহযোগিতা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক দিনা এসফান্দিয়ারির মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই নিরাপত্তা, জ্বালানি রপ্তানি, পর্যটন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা ও হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট নিয়েও নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
পাঠকের মন্তব্য