![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতে চলমান শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না বলে জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি বিরোধীরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে এবং সরকারের সঙ্গে সংলাপের পূর্বশর্ত হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, “শিক্ষার্থীদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। প্রথমত, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রীকে পদ থেকে সরাতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার আগে আমরা কোনো ধরনের আলোচনা বা সংলাপে অংশ নেব না। এটাই আমাদের চূড়ান্ত অবস্থান।”
এদিকে, একই দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন স্থগিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “যন্তর মন্তরে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। তার পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করব না।”
অভিজিৎ দীপকে আরও জানান, সিজেপির একটি প্রতিনিধি দল ভারতের কনস্টিটিউশন ক্লাবে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবে। তবে আলোচনায় অংশ নিলেও আন্দোলনের মূল দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসবে না।
এছাড়া তিনি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন ভাঙাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “তার জীবন দেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি অনশন শেষ করায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলমান এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
পাঠকের মন্তব্য