ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফেনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মেজর (অব.) মোজাফফর গ্রেপ্তার, দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। মামলার অপর আসামি হিসেবে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আদালতের কাছে মোজাফফর হোসেনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত দুই মাস সময় প্রার্থনা করেন।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখান। পাশাপাশি তদন্ত সংস্থার সুবিধাজনক সময়ে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার সেনানিবাসের কারাগারে রয়েছেন। একই দিনে এই মামলার অপর আসামি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তিনি অপর আসামি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ কারণেই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
এর আগে গত ২১ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে। প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পাঠকের মন্তব্য