ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে চলমান আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এবার এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। একটি ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং সংসদ সদস্যের দেওয়া ব্যাখ্যার সমালোচনা করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই গত ১৭ জুন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
এ ঘটনার পর এক ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাওলানা তাহেরী বলেন, “ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ। এগুলো বিকৃত মানসিকতা।”
ভিডিওটি প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা এবং পরে দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাহেরীর ভাষ্য, “এসব এআই বলে চালিয়ে দেওয়া কিংবা ধরা পড়ার পর দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলা মিথ্যাচার।”
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তার মতে, অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা উচিত, আর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মাওলানা তাহেরী আরও বলেন, “এই মিথ্যাবাদীদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে। এদের মুখে ইসলাম আছে, কিন্তু অন্তরে ইসলাম নেই।” একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় পর্দা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা জনসমক্ষে ইসলামি আদর্শের কথা বলেন, তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও সেই আদর্শের প্রতিফলন থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
গাজী নজরুল ইসলাম ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির এবং দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য।
পাঠকের মন্তব্য