![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় আরও ১৪৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯২২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মোট দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে মারা গেছেন ৬৯৮ জন এবং পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৫ জনের।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৪৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯২২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১৪ হাজার ৫৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ জনের শরীরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১ হাজার ২৬ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৩২ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এ রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। একই সঙ্গে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা জোরদারের পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
পাঠকের মন্তব্য