![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে চীন পরিকল্পিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা সেই তথ্য গোপন রেখেছিলেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্বের অন্যতম বড় নির্বাচনী ডেটা হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। তার দাবি, এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক পরিচয় এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ছিল, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ২০১৯ সাল থেকেই বেইজিং প্রশাসন তাকে নির্বাচনে জয়ী হতে না দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সাংবাদিকদের অর্থায়ন করে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহলকেও তার বিরোধিতায় উৎসাহিত করেছে। এমনকি ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেননি যে, তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন অথবা চীনের হস্তক্ষেপই তার পরাজয়ের একমাত্র কারণ ছিল। বরং তিনি বলেন, নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোটারদের তথ্য সুরক্ষায় গুরুতর ব্যর্থতা ছিল এবং এ বিষয়ে জনগণকে সত্য জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর হোয়াইট হাউস কয়েকটি অবমুক্ত গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করে। প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দীর্ঘদিন জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে ভোটার পরিচয় যাচাই, নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ব্যবস্থার কঠোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে ট্রাম্পের অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তাদের দাবি, কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য মার্কিন গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল করতে পারে।
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে বিতর্কিত করার একটি রাজনৈতিক কৌশল।
এদিকে ২০২১ সালে প্রকাশিত ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের (এনআইসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীন ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ছিল বেইজিংয়ের অগ্রাধিকার। যদিও একই প্রতিবেদনে একটি সংখ্যালঘু মতামতে বলা হয়েছিল, চীন ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল।
ভাষণে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের তদন্তে প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার অ-নাগরিকের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তিনি ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ দ্রুত পাস করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, নির্বাচনকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন জরুরি।
এদিকে ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবিসি ও এনবিসি। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমের একটি অংশও এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। যদিও পরে দুটি প্রতিষ্ঠানই তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাষণটি প্রচার করে এবং পৃথক বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী নিরাপত্তা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে।
পাঠকের মন্তব্য