![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না। উগ্রবাদ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এ বিষয়ে বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগেও বলেছি, আবারও বলতে চাই—বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না।”
উগ্রবাদ দমনে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। উগ্রবাদ ও চরমপন্থা দমনের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার ও দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ন্যায়বিচার, ন্যায়পরায়ণতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে এবং কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেই বাংলাদেশে চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের কোনো স্থান হবে না। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যেন কারও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা রাষ্ট্র ও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে উগ্রবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
সরকার এর আগে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদার, অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণা পর্যবেক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণাও অব্যাহত রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংসদের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পাঠকের মন্তব্য