![]()
‘এই ফ্রান্সকে কে থামাবে?’— গোটা বিশ্বকাপজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই প্রশ্ন। ম্যাচে নামলেই অন্তত দুটি গোল করা ফরাসিরা ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর দল। তবে সেই প্রশ্নের জবাব দিল স্পেন। সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লা রোহা।
ম্যাচের আগে লামিন ইয়ামাল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমাদের ফ্রান্সকে নয়, ফ্রান্সেরই আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। আমরা তাদের দুইবার হারিয়েছি।’ মাঠে নেমে স্পেন ঠিক সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন ঘটায়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের দখল, আক্রমণ এবং ছন্দ—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল স্প্যানিয়ার্ডরা। অন্যদিকে ফ্রান্স পুরো ম্যাচেই নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল।
২০তম মিনিটে স্পেন এগিয়ে যায়। লামিন ইয়ামালের দারুণ দৌড় থামাতে গিয়ে তাকে ফাউল করেন লুকাস দিনিয়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের চাপ সামলেও নিখুঁত শটে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করেন তিনি।
এরপর ইয়ামাল একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে সেই মুহূর্তও ফ্রান্সকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে স্পেন তাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
ফ্রান্স অবশ্য সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। গোলরক্ষক উনাই সিমনের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়েও দেজিরে দুয়ে সময়মতো শট নিতে পারেননি। এক মুহূর্তের সেই দ্বিধাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্রুত ফিরে এসে সিমন আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন ব্যবধান দ্বিগুণ করে। দানি অলমোর নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন পেদ্রো পোরো। পুরো গোলটিতে স্পেনের ধৈর্য, পাসিং এবং দলীয় সমন্বয়ের অসাধারণ প্রদর্শনী দেখা যায়।
বিশ্বকাপের আগে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়কে দলে না নিয়ে বার্সেলোনার আটজন ফুটবলারকে স্কোয়াডে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে সেমিফাইনালে বার্সেলোনা-নির্ভর আক্রমণভাগই তার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে। গোল না পেলেও দুই গোলের আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বার্সার খেলোয়াড়রা।
অন্যদিকে, উইলিয়াম সালিবার অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ছিল অগোছালো। টুর্নামেন্টজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করা দলটি সেমিফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা। অন্যদিকে বেঞ্চে বসে আহত পায়ে বরফ চেপে ধরে হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন সালিবা। তার চোখেই যেন ফুটে উঠেছিল ফ্রান্সের ভেঙে যাওয়া বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে বিবর্ণ সূচনার পর সমালোচনায় পড়া স্পেন শেষ পর্যন্ত সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে মাঠের খেলায়। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লা রোহা। এবার তাদের সামনে শুধু এক ধাপ—শিরোপা।
পাঠকের মন্তব্য