ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রতিশোধ কেবল একটি পরিবারের আবেগ নয়; বরং এটি সমগ্র ইরানি জাতির আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় অঙ্গীকার।
মোজতবা খামেনি বলেন, তার বাবার ‘নিষ্পাপ রক্ত’ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ইরানের জনগণ এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ জবাব প্রত্যাশা করে এবং রাষ্ট্রও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয় এবং লাখো মানুষ জানাজা ও দাফান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি শোকাহত জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাবার জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল ইতিহাসের অন্যতম বড় গণসমাগম। তিনি এই উপস্থিতিকে ‘শত্রু-বিধ্বংসী’ এবং ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন।
বাবার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তেহরান এই হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা কৌশলের দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করছে।
তবে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে মোজতবা খামেনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে।
পাঠকের মন্তব্য