![]()
পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে তার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেছেন, শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, একজন মানুষ ও দলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দেশ একজন ‘গ্রিন প্রাইম মিনিস্টার’ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যেও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে জাপানি মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে গড়ে ওঠা বন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ তার দীর্ঘদিনের পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। স্কুলে ‘গ্রিন ক্যাপ্টেন’, অফিসে ‘গ্রিন এমপ্লয়ি’ এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবেশবান্ধব আচরণকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে এ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবারের প্রতিটি নবজাতকের জন্ম উদযাপনে একটি করে গাছ লাগানো উচিত, যাতে নতুন প্রাণের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে ওঠে। তিনি নতুন গাছ রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করা, স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা পুরোনো গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড় ও জলাভূমি ভরাটের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল (৩আর)’ নীতি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬’ ও ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এ কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য