![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত ন্যাটো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরামে জোটটির পক্ষ থেকে একাধিক নতুন প্রতিরক্ষা উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। আকাশভিত্তিক নজরদারি, ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, মহাকাশ নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ব্যবস্থাপনাকে সামনে রেখে এসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ফোরামের উদ্বোধন করেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি বলেন, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির সূচনা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর ভাষায়, সদস্য দেশগুলো পরবর্তী প্রজন্মের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
সম্মেলনে ন্যাটোর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ পাঁচটি উন্নতমানের নর্থরপ গ্রুম্যান এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। এ লক্ষ্যে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানি এবং ডেনমার্ক একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করেছে।
মার্ক রুটে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দীর্ঘপাল্লার নজরদারি এবং রিকনাইস্যান্স সক্ষমতা জোটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ট্রাইটন ড্রোনগুলো ইতালির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর বিদ্যমান আরকিউ-৪ডি ফিনিক্স নজরদারি বহরকে আরও শক্তিশালী করবে।
ট্রাইটন ও ফিনিক্স—উভয় ড্রোনই নর্থরপ গ্রুম্যানের আরকিউ-৪ হক প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত। প্রায় ৩৫ দশমিক ৪ মিটার ডানার বিস্তারবিশিষ্ট এসব ড্রোন একটানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে অবস্থান করে দীর্ঘপাল্লার নজরদারি পরিচালনা করতে সক্ষম।
ন্যাটোর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই ড্রোনগুলো জোটের গ্রাউন্ড সার্ভেইলেন্স প্রোগ্রামকে আরও কার্যকর করবে এবং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
এদিকে প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাটো। মহাসচিব জানান, সদস্য দেশগুলো যৌথভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং কৌশলগত মজুদ ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে।
এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন এবং তুরস্ক।
ন্যাটোর মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের স্থায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করাই এ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। সংকটকালেও যাতে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই সদস্য দেশগুলো যৌথ কৌশলগত মজুদ গড়ে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, আধুনিক নজরদারি ড্রোন সংগ্রহ এবং কাঁচামাল ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগ ন্যাটোর নিরাপত্তা কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতের সামরিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য