![]()
বিষয়টি অনেকটাই অনুমিত ছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপই যে হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ, সেই ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। অবশেষে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও বিদায়ের ঘোষণা দিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার।
নকআউট পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন কণ্ঠে নিজের সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি। সত্যিই চেষ্টা করেছি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।”
এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে এক যুগেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেন তিনি।
জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের নামের পাশে এখন ৮০টি গোল, যা ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২২ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের গোলসংখ্যা স্পর্শ করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের ৮০তম গোল করে এককভাবে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে জায়গা পাকাপোক্ত করেন তিনি।
তবে যে স্বপ্ন নিয়ে সেলেসাওদের জার্সি গায়ে তুলেছিলেন, সেই বিশ্বকাপ ট্রফি আর ছোঁয়া হলো না তার।
তবুও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অর্জনের ঝুলিও কম সমৃদ্ধ নয়। ২০১৩ সালে ব্রাজিলকে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
কোপা আমেরিকায় তার সর্বোচ্চ সাফল্য ২০২১ সালের ফাইনাল, যেখানে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় ব্রাজিল।
বিশ্বকাপে তার সেরা অর্জন সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো। তবে ২০১৪ সালের সেই সেমিফাইনালে চোটের কারণে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। এরপরের দুই আসরে ব্রাজিলের যাত্রা থেমেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর গণ্ডিই পেরোতে পারেনি সেলেসাওরা।
নরওয়ের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। সেটিই হয়ে থাকল ব্রাজিলের জার্সিতে তার শেষ গোল, আর সেই গোলের মধ্য দিয়েই শেষ হলো দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
পাঠকের মন্তব্য