![]()
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নামে ইসলামী ধারায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোতে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের লুটপাট না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের সুশাসন নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক চাপ প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহসংক্রান্ত ভূমিকা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক, শরিয়া উইন্ডো ও শরিয়া শাখা পরিচালনাকারী বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিআইবিএমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি অধিক আস্থা রাখেন। এ কারণে তারা এসব ব্যাংকে বেশি আমানত জমা রাখেন। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাবের কারণে অতীতে সেই বিশ্বাসের অপব্যবহার হয়েছে। আমানতকারীদের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নামে আগে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে যেভাবে আমানতকারীদের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য পরিচালনা পর্ষদকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
মোস্তাকুর রহমান জানান, ব্যাংক খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশনা দেন, কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সামান্য আভাস পেলেও তা যেন দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম।
পাঠকের মন্তব্য