![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাজের সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে বাছাই করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মানবিক গুণাবলি, সততা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, যারা হালাল উপার্জন করেন, সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য—তাদেরই প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা উচিত। তিনি যে স্তরের জনশক্তিই হোন না কেন, যোগ্যতা থাকলে তাকে মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব গড়ে উঠবে, যা দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপমহাদেশে বিভিন্ন আন্দোলনে মুসলমানদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সংগঠনটির ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। তাদের অবদান জাতি সবসময় স্মরণ রাখবে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নীতি-নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি। দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম একটি ছোট ভুলের কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রত্যেক নেতাকর্মীকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংগঠনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। মুসলিমদের সার্বজনীন জাতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে অনেক সময় তাদেরই সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই একজন কর্মীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
নারীর মর্যাদা ও পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সমাজ, সংগঠন এবং রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। তাই মায়েদের সম্মান করা, তাদের কাজে সহযোগিতা করা এবং দ্বীনের কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে তিনি কর্মপরিষদের সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন, সংশ্লিষ্ট আমিরকে সহযোগিতা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
পাঠকের মন্তব্য