![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি এক ম্যাচেই গড়েছেন একাধিক বিশ্বরেকর্ড এবং ছুঁয়েছেন অসংখ্য অনন্য মাইলফলক।
রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ২০ গোলের অনন্য কীর্তি গড়েন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে নিজের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত মেসির মোট গোল অবদান দাঁড়িয়েছে ১২টি—৬ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট। এর মাধ্যমে তিনি পেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গত ছয় দশকের ইতিহাসে নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোল অবদানের মালিক হয়েছেন।
এছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন মেসি। একই সঙ্গে তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। ২০২২ সালের পর চলতি বিশ্বকাপেও সাত গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করে মেসি ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই নজির গড়েছেন। এর আগে এই কীর্তি ছিল হাঙ্গেরির গিয়র্গি সারোসি ও ব্রাজিলের কিংবদন্তি ভাভার।
চলতি বিশ্বকাপে নিজের শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচে মেসি সরাসরি ১০টি গোলে অবদান রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট।
৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৪ গোল করেছেন মেসি, যা এই বয়সী ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা করেছেন মাত্র পাঁচ গোল।
এদিকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ২২টি প্রতিপক্ষ দলের মধ্যে ১৪টি দলের বিপক্ষেই গোল করার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক।
৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বাধিক বয়সী গোলদাতা হয়েছেন মেসি। তার ওপরে রয়েছেন শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং পেপে।
এই ম্যাচে মেসির প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম অ্যাসিস্ট। একই ম্যাচে গোলও করেন তিনি। ফলে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই কীর্তিই গড়েন মার্টিনেজ।
বিশ্বকাপে নিজের ৩০তম ম্যাচ খেলেও নতুন ইতিহাস লিখেছেন মেসি। পুরুষ ফুটবলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে। নকআউট পর্বে এটি ছিল তার ১৩তম ম্যাচ।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জাতীয় দলের দায়িত্বে নিজের ১০০তম ম্যাচ সম্পন্ন করেন। তার অধীনে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার রেকর্ড ৭৩ জয়, ১৮ ড্র ও মাত্র ৯ হার।
ম্যাচে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা ৮টি সেভ করে আলোচনায় আসেন। এর মধ্যে পাঁচটি সেভ ছিল মেসির শট থেকে। চলতি বিশ্বকাপে তার মোট সেভের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮।
ম্যাচের ১১১ মিনিটে কেপ ভার্দের ডিনে বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার তৃতীয় সর্বশেষ সময়ে পাওয়া গোল হিসেবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
আর্জেন্টিনার এই নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে তাদের জয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টি, যা জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ।