![]()
ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা তাপদাহে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হচ্ছে। চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহে শুধু ফ্রান্সেই অতিরিক্ত অন্তত ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় ওই সময়ে মৃত্যুহার ২৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও তীব্র তাপদাহ আঘাত হানতে পারে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট জানান, তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৫ বছরের বেশি বয়সীরা। গত ২৪ জুন দেশটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং দেশের অর্ধেক এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ জারি করা হয়।
বিবিসি ওয়েদারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজোরেস অঞ্চল থেকে পর্তুগাল ও স্পেনের দিকে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সপ্তাহান্তে ফ্রান্স ও দক্ষিণ ব্রিটেনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়েই তাপমাত্রা বাড়লেও এর প্রভাব ইউরোপে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। কোপার্নিকাস জলবায়ু সেবার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় ইউরোপই সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। শুধু প্যারিসেই মৃত্যুহার বেড়েছে ৬২ শতাংশ। একই সময়ে তাপপ্রবাহের কারণে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানান, ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তাপদাহ প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। বেলজিয়ামে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। মৃতদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের সময় এত বেশি মৃত্যুর ঘটনা তাদের জন্য নজিরবিহীন।
অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসেও গত সপ্তাহের তীব্র তাপপ্রবাহে অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন ৮০ বছরের বেশি বয়সী। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অব্যাহত থাকলে ইউরোপে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ ও এর ফলে মৃত্যুর ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
পাঠকের মন্তব্য