![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভোলার লালমোহনে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘবদ্ধ হামলায় ইব্রাহিম খলিল নয়ন (২৪) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিক (১৭) লালমোহন থানায় আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম চেয়ারম্যানের বাসার সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ইব্রাহিম খলিল নয়ন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সালাউদ্দিনের ছেলে। তিনি গজারিয়া ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মানিক ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নয়ন ও তার বন্ধুদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন আরমান ও আশরাফ নামে আরও দুই যুবক।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠান।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিক লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আলাউদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে নিহতের স্বজন ও বন্ধুরা ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের লালমোহন থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিত কুমার ঘোষ। তিনি জানান, মূল অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দিনের আলোয় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লালমোহনজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।