হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্তিতে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীল’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত স্মরণসভায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, হামলা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি এবং নিহতদের স্বজনরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের সুযোগ কখনোই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত নৃশংস হামলা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়। এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজে ভয়, ঘৃণা এবং বিভাজন সৃষ্টি করা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ওই ঘটনার পর বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ এবং ‘হোল-অব-সোসাইটি’ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় মোট ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাতজন বাংলাদেশি, নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। তাদের স্মরণে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ভারতের হাইকমিশনার, জাপানের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূত, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং নিহতদের স্বজনরা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ২৪ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানির সেই মর্মান্তিক ঘটনা আজও গভীর বেদনার স্মারক হয়ে রয়েছে। তিনি স্মরণ করেন, নিহত ইতালীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জাপানি নাগরিকরা জাইকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অনুষ্ঠানে ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার একটি বার্তাও পাঠ করা হয়। বার্তায় বলা হয়, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিভেদ ও ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি; বরং বিভিন্ন জাতি ও দেশের মানুষের মধ্যে সংহতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য